আমার দুআ কেন কবুল হচ্ছে না?

0

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি-

Duaa

আমাদের অনেকেই এই অভিযোগ করে থাকে যে সে দুআ করেই যাচ্ছে কিন্ত আল্লাহ তার দুআ কবুল করছে না। তার এই দুআ কবুল না হওয়ার পেছনে বেশ কয়টি কারণ থাকতে পারে। সাধারণত দুআ কবুলের মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় এমন কিছু বিষয়-

হারাম রুজি:

ইবাদত কবুলের প্রথম শর্ত হালাল রুজি। আমার উপার্জন হালাল কিনা, আমার খাবার হালাল কিনা, আমি যে পোষাক পড়েছি সেটা হালাল কিনা এসব দেখতে হবে। এসব হালাল না হলে শবে কদরের রাতে কেউ আরাফার ময়দানে যেয়ে দুআ করলেও তার দুআ কবুল হবে না।

হারাম কিছু চাওয়া:

আমরা হারাম কিছু পাওয়ার জন্য দুআ করলে সে দুআ কবুল হবে না। কেউ তার কোন মেয়েকে গার্লফ্রেন্ড বানানোর জন্য দুআ করলো, কেউ শূকরের মাংস খেতে দুআ করলো ইত্যাদি যেকোন হারাম কাজের জন্য দুআ করলে দুআ কবুল হবে না।

গুনাহ:

আমাদের নিজেদের গুনাহ অনেক সময় আল্লাহর সাহায্য আসার পথে বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। নাবী রাসূলরা যখনই দুআ করতেন আগে নিজের অপারগতা পেশ করে ক্ষমা চেয়ে তারপর দুআ করতেন। নিজের গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে তাওবা করে দুআ করতে হবে।

আল্লাহর প্রতি ধারণা:

আমরা আল্লাহর প্রতি যে যেমন ধারণা রাখবো, আল্লাহ আমাদের ডাকে ঐভাবে সাড়া দিবেন। কেউ ইয়াকিনের সাথে আল্লাহর কাছে দুআ করে, আল্লাহই তাকে বিপদ থেকে উদ্ধার করবেন, আল্লাহ ছাড়া তার জন্য আর কেউ কল্যাণ আনতে পারবে না। এমন দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে দুআ না করলে আল্লাহ দুআ কবুল করবেন না।

খামখেয়ালি:

এমনভাবে দুআ করতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন,

“হে আল্লাহ, তুমি যদি চাও তাহলে আমাকে ক্ষমা কর, বিপদ থেকে উদ্ধার কর।” চাইতে হবে জোর দিয়ে, “আল্লাহ তুমি ছাড়া ক্ষমা করার কেউ নাই, আমাকে ক্ষমা কর। তুমি ছাড়া আমাকে কেউ বিপদ থেকে উদ্ধার করার সমর্থ রাখে না, আমাকে বিপদ থেকে উদ্ধার কর।”

বাচ্চা যেভাবে মায়ের কাছে কিছু চাইলে নাদান হয়ে চায়। সে ভাবে আল্লাহর কাছে কাকুতিমিনতি করে চাইতে হবে।

তাড়াহুড়া:

দুআ করে করে ফেডআপ হওয়া বা দুআ কবুল হওয়ার জন্য তাড়াহুড়া করলে দুআ কবুল হয় না। সবরের সাথে দুআ করে যেতে হবে। বান্দার জন্য কল্যাণের সময়ে ঠিকই আল্লাহ দুআ কবুল করবেন।

সুসময়ে দুআ না করা:

আমরা শুধু বিপদে পড়লেই দেখা যায় দুআ করি। সুখের সময় আল্লাহকে ভুলেই যাই। সুখের সময়েও আল্লাহর কাছে দুআ জারি রাখতে হবে। আল্লাহকে সুখের সময়ে স্মরণ করলে, আল্লাহ আমাদেরকে কষ্ট মুসিবতের সময়ে স্মরণ করবেন।

সব শর্ত মেনে দুআ করলে ইনশাআল্লাহ দুআ কবুল হবে। তবে দুআ কবুল হতে দেরি হওয়া, কবুল না হওয়ার কিছু ইতিবাচক কারণ থাকে।

১) দুআ চাওয়া হচ্ছে কিন্তু আল্লাহ জানেন তাঁর বান্দার জন্য ঐ দুআ কবুলের সময় এখন না। বান্দার সবর পরীক্ষা করে দেরিতে দুআ কবুল করবেন।

২) আল্লাহর কাছে যা চাওয়া হচ্ছে, বান্দার জন্য তিনি এর থেকেও উত্তম কিছু প্রস্তুত রেখেছেন। উত্তম কিছু দিয়ে তাকে তুষ্ট করা হবে।

৩) আল্লাহ বান্দার দুআ কবুল করলেন না, কারণ বান্দা যা চাইছে তা বান্দার জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। আল্লাহ যেহেতু ভবিষৎ জানেন, তাই আগামী দিনের ক্ষতি থেকে বান্দাকে বাঁচাতেই দুআ কবুল করবেন না।

৪) আল্লাহ দুনিয়াতে বান্দার দুআ কবুল করবেন না। এর বিনিময়ে আখিরাতে আল্লাহ তাঁর বান্দার গুনাহ মাফ করে দিয়ে তাকে জান্নাতে দাখিল করাবেন। হাদিসে এসেছে, দুনিয়াতে যাদের দুআ কবুল হয় নাই তাদেরকে যখন জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে তখন তারা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করবে এ কারণে যে তাদের দুআ দুনিয়ায় কবুল করার পরিবর্তে আখিরাতে জান্নাত দেয়া হলো।

Print Friendly, PDF & Email


'আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক'
প্রবন্ধের লেখা অপরিবর্তন রেখে এবং উৎস উল্লেখ্য করে
আপনি Facebook, Twitter, ব্লগ, আপনার বন্ধুদের Email Address সহ অন্য Social Networking ওয়েবসাইটে শেয়ার করতে পারেন, মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন। "কেউ হেদায়েতের দিকে আহবান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে প্রত্যেকের সমান সওয়াবের অধিকারী সে হবে, তবে যারা অনুসরণ করেছে তাদের সওয়াবে কোন কমতি হবেনা" [সহীহ্ মুসলিম: ২৬৭৪]

Donate

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.