আসল সফলতা কি?

1

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি-

Success

আমাদের মস্তিষ্কে, চিন্তা চেতনায় এই ধারণা খুব জোরালো ভাবে গেঁথে গেছে, যে সফলতা হল টাকায়, সফলতা হল ব্যবসায়, সফলতা হল সম্পদে, সফলতা হল খ্যাতিতে, সফলতা হলে বড় জব পজিশনে। যে যত বেশি সম্পদশালী সে তত বেশি সফল। যে যত বেশি জনপ্রিয় সে তত বেশি সফল। যে রাস্ট্রীয় ক্ষমতা অর্জন করেছে সে সফল। যে বড় ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান বা জব তৈরি করেছে যে সফল। যে অনেক সম্পদ অর্জন করেছে সে সফল। যে যত উচ্চ জব পজিশন অর্জন করেছে সে সফল। এটাই হল আসলে সকল অবনতির মূল।

সফলতার সংজ্ঞায় যা নির্ধারণ করা হবে, তা কেন্দ্র করেই আপনার সকল দৌড়ঝাপ, সকল শক্তি নিয়োগ করবেন। ওটার জন্যই যুদ্ধ-জিহাদ করবেন। ওটা অর্জনের জন্যই দিন-রাত প্রচেষ্টা চালাবেন। এটাই হল মূল বিষয় যা আমাদের বুঝতে হবে।

সফলতা সম্পদে নেই, সফলতা জনপ্রিয়তা ও খ্যাতিতে নেই, সফলতা ক্ষমতা ও শক্তিতে নেই। বরং সফলত হল ঈমানে। সফলতা হল আমালে সালেহ তথা সৎ কর্মে। আপনি লক্ষ্য করুন, এই দৃষ্টিভঙ্গি ও মনোভাবের পরিবর্তনই মানুষের ব্যক্তিত্বে এক বিপ্লব সৃষ্টি করতে পারে। প্রকৃতপক্ষে, সম্পদে যদি সফলতা থাকত তাহলে কারুন অনেক সফল হত; যদি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় সফলতা থাকত তাহলে ফিরাউন ও নমরুদ অনেক সফল হত। সফলতা এই সবে নেই। মানুষ সম্পদে কারুনের সমপর্যায়ে চলে গেলে এবং হুকুমত ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়, সাম্রাজ্যে সে ফিরাউন ও নমরুদের সমপর্যায়ে চলে গেলেও সে নাকাম, পথভ্রষ্ট, চরম ভাবে ব্যর্থ!

সফল কে?

আবু যর গিফারী রাযিয়াল্লাহু আনহু হলেন সফল। যদিও তার কাছে কিছুই ছিল না। মাথা লুকানোর কোনো ঠাই ছিল না, কোনো ঘর ছিল না তার। রাসূল (সা) বলেন,

“আল্লাহর কিছু বান্দা এমন হয়, যদি তারা কোনো মাহফিলে যেতে চায় তাহলে সেখানে যাওয়ার অনুমতি তারা পায় না, যদি তারা কোথাও সম্পর্ক তৈরি করতে চায় তাহলে কেউ তাদের সাথে সম্পর্ক তৈরি করে না, যদি তারা কোথাও সুপারিশ করতে চায় তাহলে তাদের কথা কেউ শুনে না। কিন্তু আল্লাহর নিকট তাদের এমন মর্যাদা রয়েছে, যদি ভুলেও তারা কোনো বিষয়ে কসম করে নেয়, তখন আল্লাহ তাদের কসম পূর্ণ করে দেন।”

 

এটাই হলো আসল পার্থক্য। ভালো করে বুঝে নিন। এই কথা মেনে নেয়া সহজ। এটা শুনে সুবাহানাল্লাহ বলা সহজ। কিন্তু এটা বুঝে আপনার দৃষ্টিভঙ্গী, চিন্তা-চেতনা ও মনোভাবের পরিবর্তন করতে পারা খুবই কঠিন। কেননা আমরা আমাদের পারিপার্শ্বিক অবস্থা থেকে, সমাজ থেকে, প্রভাবিত হই। বিশাল বড় মহল, বিল্ডিং যা আপনি দেখছেন, ২০ ফুট লম্বা গাড়ি যা আপনার সামনে থেকে যাচ্ছে। তখন অন্তরে উদ্রেক তৈরি হয়, মনে অনুভব হয়, কতই না সৌভাগ্যবান তারা, কতই না সুখী, কতই না সফল তারা। অথচ আমরা জানি না এটাই সবচেয়ে বড় দুর্ভাগ্য তাদের। হতে পারে এটাই তাদের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা। আসল সফলতা কী? এর উত্তর যদি আমাদের অন্তরে গেঁথে যায় তাহলে জীবন বদলে যাবে। কুর’আনে কয়েকবার বলা হয়েছে وَأُولَٰئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ ‘এরা হলো ঐ লোক যারা সফলকাম’। আল্লাহ বলেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا ارْكَعُوا وَاسْجُدُوا وَاعْبُدُوا رَبَّكُمْ وَافْعَلُوا الْخَيْرَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ ۩

“হে মুমিনগণ! তোমরা রুকু কর, সেজদা কর, তোমাদের পালনকর্তার এবাদত কর এবং সৎকাজ সম্পাদন কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।” (সূরা হাজ্জঃ ৭৭) 

 

বোঝা গেল, সফলতা কোন কোন জিনিসে রয়েছে তা চিনতে পারাই হলো সবচেয়ে বড় শিক্ষা। যদি এটা আমাদের অন্তরে বসে যায় তাহলে জীবন বদলে যাবে। দিন-রাতের প্রচেষ্টা বদলে যাবে, জীবনের লক্ষ্য উদ্দেশ্য বদলে যাবে। আমাদের দৌড়-ঝাপের কেন্দ্রস্থল বদলে যাবে। জীবনের রূপ বদলে যাবে। আজ যে যে জিনিস খুব মূল্যবান মনে হচ্ছে কাল তা অসার ও বেকার মনে হবে। যেমন রাসূল (সা) বলেছেন, তোমার দুনিয়ার সাথে আমার কি সম্পর্ক? আমার উপমা তো হলো ঐ মুসাফিরে মত, যে কিছুক্ষণের জন্য গাছের ছায়ায় থেমে যায়, বিশ্রাম নিতে। এবং আবার নিজের পথে চলা শুরু করে। ঐ গাছের সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই। সেটা তার ঘর নয়, মঞ্জিল নয় গন্তব্য নয়।

وَالْعَصْرِ ﴿١﴾ إِنَّ الْإِنسَانَ لَفِي خُسْرٍ ﴿٢﴾ إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ ﴿٣﴾

“কসম যুগের (সময়ের)। নিশ্চয় মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত; কিন্তু তারা নয়, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে এবং পরস্পরকে তাকীদ করে সত্যের এবং তাকীদ করে সবরের।” (সূরা আসর) 

[শাইখ ইসরার আহমাদ এর একটি লেকচারের আংশিক অনুবাদ। আল্লাহ শাইখকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন। আমিন।]
Print Friendly, PDF & Email


'আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক'
প্রবন্ধের লেখা অপরিবর্তন রেখে এবং উৎস উল্লেখ্য করে
আপনি Facebook, Twitter, ব্লগ, আপনার বন্ধুদের Email Address সহ অন্য Social Networking ওয়েবসাইটে শেয়ার করতে পারেন, মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন। "কেউ হেদায়েতের দিকে আহবান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে প্রত্যেকের সমান সওয়াবের অধিকারী সে হবে, তবে যারা অনুসরণ করেছে তাদের সওয়াবে কোন কমতি হবেনা" [সহীহ্ মুসলিম: ২৬৭৪]

Donate

1 মন্তব্য

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.