আমাদের কর্মপন্থা কেমন? বিয়ে করব বিয়ে করব

0

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি-

marriage

লেখক : নিজাম উদ্দিন

মেয়েরা যেহেতু ঘরে সারাক্ষণই প্রায় কাজের মধ্যে থাকে, তাদের পরনের কাপড়ও পুরনো হয় সহজে। প্রতি মাসে একটা করে নতুন থ্রী-পিস দরকার। দাম কমপক্ষে ৪৫০ টাকা মান কিছুটা ভাল হলে।

প্রতিমাসে পিরিয়ডে ৭ দিন স্যানিটারি ন্যাপকিন লাগে। এখানেও কয়েক-শ টাকা। আনুষঙ্গিক কিছু ওষুধের খরচও শ-দুয়েক টাকা। বাপের বাড়িতে বেড়াতে গেলে নাস্তা-গাড়িভাড়া ইত্যাদি হাজার খানেক টাকা। প্রতিদিন মোবাইল খরচা ১০ টাকা। মোটামুটি মাসে হাজার পাঁচেক টাকা তো ব্যয় হবে।

বর্তমানে বেকার আপনি নিজের সব খরচার টাকা মায়ের কাছ থেকে নেন। বিয়ের পর বৌয়েরটাও নিবেন?

বড্ড হা-হুতাশ করছেন, দ্বীন বাঁচাবো কি করে, ফিতনায় পড়ে যাচ্ছি। এভাবে ঈমান বাঁচানো কঠিন। মা-বাবা বিয়ে করাচ্ছেনা।

আচ্ছা, বিয়ের প্রস্তুতি নিয়েছেন তো?

আপনি ভাবছেন শুধু শারীরিক সক্ষমতা আর রাতে শুতে পারাটাই বিয়ের প্রস্তুতি। আচ্ছা, আপনিতো যৌতুক নিবেন না, তো বউ নিয়ে ঘুমানোর জন্য খাট কিনেছেন? কাপড় রাখার আলমারি? ড্রেসিং টেবিল?

বাপেরটা খেয়ে শরীরে শক্তি অনুভব আর রাস্তায় বেগানা নারী দেখে কামোত্তেজনা। এবং ভাবছেন এটাই বিয়ের প্রস্তুতি!

বাবা-মা বিয়ে না করানোর শক্তিটা কেন পায় আর করানোর সাহসটা পায় না কেন? আপনি দ্বীনিবোনের সাথে টেক্সট আর ভয়েস চ্যাটের ‘এম্বি’ কার্ডটাও মার থেকে নিয়ে কেনেন, স্কুল-কলেজ পড়ুয়া প্রিয় মানুষটাকে দেখার জন্য উপযুক্ত রাস্তা পর্যন্ত যাওয়ার দৈনিক ভাড়াটাও কৌশলে উনাদের থেকে আদায় করেন আর উনারা করাবে আপনাকে বিয়ে?

টুকটাক টাকা কামাই করেন কিন্তু ঘরে খরচা দেন না। যা কামান মাস শেষে কাপড়, ফোন, বন্ধুদের সাথে খাবার-দাবার, ঘুরাঘুরিতে উড়ান। আপনাকে ভরসা করবে কেমনে?

একান্তই সিরিয়াস হলে এক মাসে একটা বড় খাট কিনেন। কয়েক মাস পর মেহমান বসানোর সোফা নেন। এরপর আলমারি, ড্রেসিং টেবিল যোগাড় করেন। রুমটা রং করান। প্রতি মাসে ঘরে কিছু খরচা দেন। এসব দেখে মা’ই জিজ্ঞেস করবেন, ঘটনা কী? এবার সাফ বলে দেন, বিয়ে করব। মেয়ে দেখুন।

কোন কর্মসূচি নাই শুধু ফেবুতে বিয়ে করব, বন্ধুদের ‘বিয়ে করব’ বলে বলে লাভ আছে? আর এই বিয়ের পর কোন সম্মান আছে? বউয়ের স্যানিটারি ন্যাপকিনের টাকাটাও যদি বাবার কাছ থেকে চেয়ে নিতে হয়! এটা কোন আত্মসম্মানের ব্যাপার হলো?

বিয়ের ২ বছর বা বছরখানেক পূর্ব হতেই কর্মপন্থা ঠিক করেন। তাদের আশ্বস্ত করেন। বউয়ের ভরন-পোষনের ন্যূনতম যোগ্যতা অর্জন করেন। এরপর তারা না করালেও নিজে করে নিতে পারবেন।

কপালে যা থাকে তাই পরবে, খাবে এটা বলে বেকার বসে থাকা এটা বদদ্বীনি কথা, সংসার বিরাগীদের কর্মপন্থা।

আসুন, একটা হাদিস দিয়ে শেষ করি। রসুলূল্লহ সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

“শক্তিশালী মুমিন উত্তম এবং আল্লাহর নিকট পছন্দনীয় দূর্বল মুমিনের চাইতে। অথচ উভয়েই উত্তম। ঐ বিষয়ের প্রতি ধাবিত হও যাতে তোমার কল্যাণ রয়েছে এবং আল্লাহর সহায়তা চাও। আর অকর্মণ্য বসে থেকো না।” (শেষ পর্যন্ত)

দেখুন, উভয় প্রকারের মুমিন উত্তম হওয়ার পরও সক্ষম, শক্তিধর মুমিন আল্লাহর অধিক পছন্দনীয়।

কেননা তার দ্বারা দ্বীনের কাজ অধিক আদায় হবে। এরপর বলছেন, তোমার জন্য লাভজনক এরকম কাজের প্রতি অধিক আগ্রহী হও।

এরপর আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা কর। এরকম বলা হয় নাই, কাজের আশায় বসে বসে প্রার্থনা কর। বরং কাজ শুরু করেই প্রার্থনা কর। এরপর বলা হচ্ছে, হাত-পা গুটিয়ে বসে থেক না, হতাশ হয়ে পড়ো না।

Print Friendly, PDF & Email


'আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক'
প্রবন্ধের লেখা অপরিবর্তন রেখে এবং উৎস উল্লেখ্য করে
আপনি Facebook, Twitter, ব্লগ, আপনার বন্ধুদের Email Address সহ অন্য Social Networking ওয়েবসাইটে শেয়ার করতে পারেন, মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন। "কেউ হেদায়েতের দিকে আহবান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে প্রত্যেকের সমান সওয়াবের অধিকারী সে হবে, তবে যারা অনুসরণ করেছে তাদের সওয়াবে কোন কমতি হবেনা" [সহীহ্ মুসলিম: ২৬৭৪]

Donate

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.