বোনদের জন্য দুটি নাসিহা

0

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি-

Two suggestions for sisters

এক.

বোন, আপনি নিক্বাহর জন্য এমন পাত্রকে বেছে নিচ্ছেন, আল্লাহ্‌ তা’য়ালার সাথে যার কমিটমেন্ট ঠিক নেই। তাহলে কিভাবে আশা করেন যে সেই স্বামী আপনার সাথে কমিটমেন্ট অক্ষুণ্ণ রাখবে? স্রষ্টার ভয় যার নেই তার আবার সৃষ্টির ভয়?

মানুষের ভিতর যদি আল্লাহর ভয় না থাকে, যদি ক্ববর, জাহান্নাম, সর্বোপরি আখিরাতের ভয় না থাকে তাহলে সে যেকোন গুনাহই অনায়াসে করতে পারে।

বোন, আপনি যে স্বামীকে পরকীয়া থেকে সাবধান করেন সে স্বামীকে কি দাড়ি কেটে ফেলার জন্য সাবধান করেছেন কখনো? যে স্বামীকে সকাল সকাল অফিসে যাওয়ার জন্য নাস্তা রেডী করে দেন, সেই একই স্বামীকে কী ফজর ওয়াক্তে চোখে পানির ছিটা দিয়ে মাসজিদের দিকে পাঠিয়েছেন কখনো?

যে স্বামীকে পেপার-পত্রিকা আর ফেসবুক নিয়ে পড়ে থাকে, সেই স্বামীকে কি ক্বুর’আন পড়তে উৎসাহ দিয়েছেন একটিবার? দেননি তাই না? সেই স্বামী আজ যখন পরনারীতে আসক্ত হলো তখন আপনি এত উচ্চবাচ্য করছেন। নিজের স্বার্থে লেগেছে তা-ই?

আল্লাহর সাথে যে আপনার স্বামীর কমিটমেন্ট ঠিক নাই তাতে তো কোনদিন উচ্চবাচ্য করেন নি। কোনদিন তো প্রাণের স্বামীর হাতে হাত আর চোখে চোখ রেখে বলেননি “আজ তুমি ফজরের স্বালাত না পড়লে তোমার সাথে কোন কথা নেই”। বলেননি – টাখনুর উপরে প্যান্ট পরতে। আপনি বলেননি – দাড়ি রাখতে।

আজ যখন আপনার স্বামীর দাড়িবিহীন চিকচিক করা গালে বেগানা নারীর চুম্বনের রক্তিম নিশানা দর্শন করলেন তখন আপনি খেই হারিয়ে ফেললেন।

অথচ আরো আগেই আপনার স্বামীর অন্তরে হিদায়েতের হারিকেন জ্বালিয়ে দেওয়া দরকার ছিল। দরকার ছিল স্বামী নির্বাচন করার সময় তার দ্বীনদারিত্ব চেখে দেখা। দরকার ছিল জান্নাতের সাথী নির্বাচন করা। বড্ড দরকার ছিল।

দুই.

অনেক দ্বীনি বোনকে দেখা যায় নিক্বাহর জন্য বায়োডাটা দিয়ে পাত্র খুঁজতে। অনলাইনভিত্তিক অনেক ম্যারিজ মিডিয়ার কল্যাণে দেখতে পেয়েছি যে কোন দ্বীনি ডাক্তার বোন অবিকল দ্বীনি ডাক্তার অথবা ইঞ্জিনিয়ার পাত্র খুঁজছেন।

কিংবা এমবিএ করা কোন বোন পাত্র খুঁজছেন পিএইচডি/এমবিএ করা পাত্র। মোটা দাগে দ্বীনি ফ্লেবারও ঠিক রাখা হচ্ছে আবার সামাজিক স্ট্যাটসটাও। এই যায়গাটায় আমার কাছে আপত্তি আছে।

বোন একটা অনুরোধ করি শুনুন, আপনি যদি ডাক্তার হন তাহলে একটা বেকার ছেলেকে নিক্বাহ করুন। ক্রাইটেরিয়া দিন “পাত্রের দ্বীনদারিত্বই মূখ্য”। দ্বীনদারিত্বের বিচারে পাত্র নির্বাচন করা হবে। তাতে করে যে দ্বীনদার ছেলেটা নিক্বাহ করতে পারছেনা তার একটা গতি হবে।

মা খাদিজা (রা:) – এর কথাই চিন্তা করুন না। কি ছিল তখন মুহম্মদ (সা:) – এর? সত্যবাদীতা আর সুন্দর আখলাক ছাড়া। এতে করে কি খাদিজা (রা:) – এর স্ট্যাটাস কমেছে না বেড়েছে। অবশ্যই বেড়েছে এক্ষেত্রে আল্লাহ্‌ তাকে সালাম দিয়েছেন তার উপরে জান্নাতী নারীর সম্মান অর্জন করেছেন।

সুবহানাল্লাহ! একজন ইয়াতীম, অনাথ ছেলেকে স্বামীর স্থান দিয়েছিলেন তিনি, শুধুমাত্র তার চরিত্র দেখে, আখলাখ দেখে। বয়স আর পারিপার্শ্বিকতা সেখানে কোন ম্যটার করেনি। কাজ করেনি স্ট্যাটাস আর প্রতিপত্তি।

আল্লাহর জন্য একটু ছাড় দিলেই কিন্তু অনেক ভাই আজ এই পবিত্র বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে একটি সুন্দর জীবন শুরু করতে পারে। আর তাছাড়া আপনি ডাক্তার হয়ে যদি ডাক্তার পাত্রই খুঁজতে থাকেন তাহলে পাত্র খুঁজতে খুঁজতে আপনার দেরীও হয়ে যাবে।

আবার দুজনেই ডাক্তার হবার কারণে / একই পেশায় / ভিন্ন পেশায় কাজ করলে কিন্তু একজন আরেকজনকে ঠিকমত সময়ও দেওয়াটাও সুকঠিন হয়ে পড়ে।

এর চাইতে একটা পাক্কা দ্বীনদার পাত্র কি আপনার জন্য সার্বিক দিক দিয়ে ভালো নয়? হউক না সে আপনার স্ট্যাটাসের না।

হউক না সে বয়সে ছোট। তার চরিত্র, দ্বীনদারিত্ব দেখেই সেরে ফেলুন না এই নেক কাজটি। আপনার নিয়ত ও আমলে শোভা পাক আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি, বিলীন হউক সামাজিক পরিতুষ্টি।

Print Friendly, PDF & Email


'আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক'
প্রবন্ধের লেখা অপরিবর্তন রেখে এবং উৎস উল্লেখ্য করে
আপনি Facebook, Twitter, ব্লগ, আপনার বন্ধুদের Email Address সহ অন্য Social Networking ওয়েবসাইটে শেয়ার করতে পারেন, মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন। "কেউ হেদায়েতের দিকে আহবান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে প্রত্যেকের সমান সওয়াবের অধিকারী সে হবে, তবে যারা অনুসরণ করেছে তাদের সওয়াবে কোন কমতি হবেনা" [সহীহ্ মুসলিম: ২৬৭৪]

Donate

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.