ফজরের সালাতের গুরুত্ব

0

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি-

Salat

নরম বিছানা ত্যাগ করে, আরামের ঘুম বাদ দিয়ে ফযর সালাতের জন্য মসজিদে যাওয়া একটু কষ্টকর কাজ, এ কারণে অনেকে চার ওয়াক্ত সালাত নিয়মিত পড়লেও ফযরের সালাতের ব্যপারে উদাসীন থাকে।

তার উপর শীতকালে ফযরের সময় ঠান্ডা পানি দিয়ে ওযু করাতো আরো কষ্টকর। কিন্তু এই কষ্টকর কাজের আড়ালে কত বড় ফযীলত লুকিয়ে রয়েছে, আর তা না করলে কি ক্ষতি বা শাস্তি রয়েছে, আমরা সবাই কি তা জানি বা উপলব্ধি করি? এ সম্পর্কিত কয়েকটি হাদীস বর্ণনা করা হলো:

ফযর ও আসরের সালাত সঠিক সময়ে আদায় করা:

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি দুইটি ঠান্ডা সময়ের (অর্থাৎ, ফযর ও আসর) সালাতের হেফাজত করবে, সেই ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে।” (সহীহ বুখারীঃ ৫৭৪, সহীহ মুসলিমঃ ১৪৭০)

এই দুইটি সময়ে ব্যস্ততা বা ঘুমের কারণে অনেকেই উদাসীন হয়ে সালাত কাযা করে ফেলে। একারণে এই দুইটি সালাত হেফাজত করার বিশেষ ফযীলত হিসেবে সে জান্নাতে যাবে।

ইশা ও ফযরের সালাত জামাতের সহিত আদায় করা:

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি ইশা সালাতের জামাতে হাযির হবে, তার জন্য অর্ধেক রাত পর্যন্ত কিয়াম (নফল সালাত আদায়) করার সমান নেকী হবে। আর যে ব্যক্তি ইশা সহ ফজর সালাত জামাতের সহিত আদায় করবে, তার জন্য সারারাত ধরে কিয়াম করার সমান নেকী হবে।” (সহীহ মুসলিমঃ ৬৫৬, তিরমিযীঃ ২২১, আবু দাউদঃ ৫৫৫, আহমাদ)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “মুনাফিকদের নিকট সর্বাধিক কঠিন ও ভারী সালাত হচ্ছে ইশা ও ফজরের সালাত। এই দুই সালাত আদায়ের মধ্যে কি পরিমান কল্যাণ ও সওয়াব রয়েছে, যদি তারা সে সম্পর্কে জানত, তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তারা এই দুই সালাতের (জামাতে) অংশগ্রহণ করত।” (সহীহ বুখারীঃ ৬৫৭, সহীহ মুসলিমঃ ৬৫১)

ফযরের সালাত আদায় করলে আল্লাহর পক্ষ থেকে নিরাপত্তা লাভ হয়:

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি ফযরের সালাত আদায় করলো, সে আল্লাহর জিম্মায় বা দায়িত্বে চলে গেলো।” (সহীহ মুসলিমঃ ১৫২৫, তিরমিযীঃ ২২২, ইবনু মাজাহঃ ৩৯৪৫)

কষ্টের সময় সুন্দরভাবে ওযু করার ফযীলত:

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “গুনাহর কাফফারার জন্য আমল হচ্ছে:

  • (ক) (জামআ’তে) সালাতের পর মসজিদে অবস্থান করা,
  • (খ) জামআ’তের জন্য পায়ে হেঁটে (মসজিদে) যাওয়া,
  • (গ) কষ্টের সময় পরিপূর্ণভাবে ওযু করা।
    যে ব্যক্তি এই আমলগুলো করবে, তার জীবন হবে কল্যাণময়, আর মৃত্যুও হবে কল্যাণময়। আর (এই আমলগুলোর বিনিময়ে সে তার গুনাহ থেকে এমনভাবে পবিত্র হবে) যেই দিন তার মা তাকে ভূমিষ্ঠ করলেন, গুনাহর ক্ষেত্রে তার অবস্থাও হবে ঠিক সেই দিনের মত (নিষ্পাপ)।” (জামি তিরমিযী: ৪/১৭৩-১৭৪; হাদীস নং-৩২৩৪। ইমাম তিরমিযী রহি’মাহুল্লাহ হাদীসটিকে ‘হাসান গরীব’ বলেছেন। মুহা’ম্মদ নাসিরউদ্দীন আলবানী (রহিঃ) হাদীসটিকে ‘সহীহ’ বলেছেন।)

ফযর সালাত কাযা করলে সেই দিনে বরকত কমে যাবে, একারণে মনে বিষণ্ণতা ও অনুতাপ সৃষ্টি হবে:

নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যখন তোমাদের কেউ ঘুমাতে যায়, শয়তান তখন তার মাথায় তিনটা গিঁট লাগিয়ে দেয়। প্রত্যেক গিঁট লাগানোর সময় সে বলে, “এখনো অনেক রাত্র বাকী আছে” অথাৎ তুমি শুয়ে থাক। যখন সে জেগে উঠে, সে যদি আল্লাহর যিকর করে (অর্থাৎ আল্লাহকে স্মরণ করে), তাহলে একটি গিঁট খুলে যায়। অতঃপর সে যদি ওযু করে, তাহলে আরো একটি গিঁট খুলে যায়। আর সে যদি সালাত আদায় করে, তাহলে সবগুলো গিঁট খুলে যায় এবং তার সকালটা হয় আনন্দ ও উদ্দীপনার সহিত। আর সে যদি (ঘুম থেকে না উঠে, আল্লাহকে স্মরণ না করে, ওযু না করে এবং ফযরের নামায না পড়ে), তাহলে তার সকালটা হয় ক্লান্ত ও বিষাদময়।” (সহীহ বুখারীঃ ১১৪২, সহীহ মুসলিমঃ ৭৭৬, নাসায়ীঃ ১৬১০)

ইচ্ছাকৃতভাবে ঘুমিয়ে থেকে ফরয সালাত কাযা করলে তার শাস্তির বিবরণ:

একবার এক স্বপ্নে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামকে কয়েকটি পাপের শাস্তি দেখানো হয়।

উল্লেখ্য, নবী-রাসুলদের সব স্বপ্ন ওয়াহী, অর্থাৎ আল্লাহর পক্ষ থেকে সত্য স্বপ্ন। একদিন সকালে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

“আজ রাতে আমার কাছে দুইজন আগন্তুক এসেছিল। তারা আমাকে বললো, আমাদের সাথে চলুন। আমি তাদের সাথে গেলাম। আমরা এমন এক লোকের কাছে পৌঁছলাম, যে চিত হয়ে শুয়ে ছিলো। অপর এক ব্যক্তি পাথর নিয়ে তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। সে পাথর দিয়ে শুয়ে থাকা ব্যক্তির মাথায় আঘাত করছে এবং থেঁতলে দিচ্ছে। যখন সে পাথর নিক্ষেপ করছে তা গড়িয়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। লোকটি গিয়ে পাথরটি পুনরায় তুলে নিচ্ছে। এবং তা নিয়ে ফিরে আসার সাথে সাথেই লোকটির মাথা পুনরায় পূর্বের মতো ভালো হয়ে যাচ্ছে। সে আবার লোকটির কাছে ফিরে আসছে এবং তাকে পূর্বের মতো শাস্তি দিচ্ছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আমি আমার সংগী দুইজনকে জিজ্ঞাস করলামঃ সুবহা’ন-আল্লাহ! এরা কারা? তারা পরবর্তীতে উত্তর দেন, সে হচ্ছে এমন ব্যক্তি যারা কুরআন মুখস্থ করে তা পরিত্যাগ করে এবং ফরয নামায না পড়েই ঘুমিয়ে পড়ে।” (সহীহ বুখারী, রিয়াদুস সালেহীনঃ ১৫৪৬)

Print Friendly, PDF & Email


'আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক'
প্রবন্ধের লেখা অপরিবর্তন রেখে এবং উৎস উল্লেখ্য করে
আপনি Facebook, Twitter, ব্লগ, আপনার বন্ধুদের Email Address সহ অন্য Social Networking ওয়েবসাইটে শেয়ার করতে পারেন, মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন। "কেউ হেদায়েতের দিকে আহবান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে প্রত্যেকের সমান সওয়াবের অধিকারী সে হবে, তবে যারা অনুসরণ করেছে তাদের সওয়াবে কোন কমতি হবেনা" [সহীহ্ মুসলিম: ২৬৭৪]

Donate

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.