গান হচ্ছে অন্তরের মদ

0

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি-

song

গান হচ্ছে অন্তরের মদ।  না শুধু গানই না, মিউজিকও অন্তরের মদ। কেন বলুন তো? এত্ত কঠিন কথা টা? শুনলাম, জানলাম, কিন্ত কথাটা এত্ত কঠিন কেন তা ভেবে দেখলাম না।

আপনি ভাবতে পারেন যে “মদ সেটা তো হারাম। কি খারাপ জিনিস আল্লাহ্।” কেও মদ খেলে আপনি এমন ঘ্যান্না করবেন আর এই কথাটাই বলবেন। কিন্তু মিউজিক আর গানের ব্যাপারে আপনার মন্তব্য টা এমন, “আরেহ অইটাতো এখন অহরহ, রাস্তা ঘাট, দোকান পাট, বিয়ে অনুষ্ঠান সব জায়গায় চলে। অই এখনকার দিনকাল,” অনেকে বলবে, “একটু বিনোদন না থাকলে জীবন চলে নাকি। নামাজ কালাম তো করিই!

কত্ত সহজ তাই না? কি অদ্ভুত, আমরা হারাম কে কিন্তু এই সমস্ত কথা দিয়েই হালাল বানিয়ে ফেলছি? আচ্ছা আসুন একটু গভীর ভাবে ভাবি মিউজিক, আর মিউজিক সহ গানকে কেনো মদের সাথে তুলনা করা হলো,

মিউজিক অবশ্যই অন্তরের মদ। আপনি মিউজিক ছাড়া ইসলামিক গজল শুনতে পারেন, তাহলে মিউজিক এমন কি দোষ করল। যে এটা হারাম?

(মিউজিক সহ ইসলামিক গান, গজল, সুরা, তেলাওয়াত, নাটক সবই হারাম)

আপনি নিশ্চই জানেন মদ খেয়ে নামাজ পরা হারাম। কারন কি? কারন অই সময় মস্তিষ্ক আপনার কন্ট্রোল এর বাইরে থাকে। আপনি কুফরি করতে পারেন মনের ভুলে৷
অনেকেই বলে নামাজে আমার মন বসে না! কেন? কারন আপনার অন্তরে মিউজিকের প্রভাব। মদ জেরকম আমাদের মস্তিষ্ক কে বিকৃত করে দেয়। সেরকম মিউজিক আপনার অন্তরকে, আপনার কন্ট্রোল এর বাইরে নিয়ে জায়। জিকিরে আপনার মন বসে না কেন? গান শুনতে আপনার খুব ভাল্লাগে। কারন মিউজিক নামক শয়তানের প্ররোচনা আছে সেখানে। অথচ জিকিরে কেন আপনার আনন্দ নেই? কারন আপনার অন্তরে বিষিত আছে মিউজিক এর প্রভাব। আপনি যখন সারাক্ষন টিভি দেখছেন ফোনে গান মিউজিক নাটক এসব নিয়ে আছেন সেখানে আপনার অন্তর এ কি করে ইবাদাত এর মজা থাকবে। আপনি তো মজে আছেন হারাম নিয়ে।

গান, বাজনা, তবলা, সারিন্দা, হারমুনিয়াম, এদের মুরুব্বী আবু জাহেল, আবু লাহাবেরা। পবিত্র কোরআনের প্রচার-প্রসারে বিঘ্নতা সৃষ্টির লক্ষ্যে যে আদর্শ রেখে গেছে, তা-ই তারা অবলম্বন করছে মাত্র।

মক্কার কাফের মুশরিকরা কোরআন শিক্ষা তথা কোরআন শ্রবণ থেকে মানুষদের বিরত রাখার জন্য ঘোষণা দিয়েছিল।

وَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لَا تَسْمَعُوا لِهَذَا الْقُرْآَنِ وَالْغَوْا فِيهِ لَعَلَّكُمْ تَغْلِبُونَ

অর্থ: আর কাফেরেরা বলে, তোমরা এ কোরআন শ্রবণ করোনা, এবং এর আবৃত্তিতে হট্টগোল সৃষ্টি কর, যাতে তোমরা জয়ী হও। [সূরা হা-মীম সেজদা আয়াত: ২৬]

তাফছিরে কুরতুবীতে আছে: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, আবু জেহেল অন্যদেরকে প্ররোচিত করল যে, মুহাম্মদ যখন কোরআন তেলাওয়াত করে, তখন তোমরা তার সামনে গিয়ে হৈ-হুল্লোড় করতে থাকবে, যাতে সে কি বলছে তা কেউ বুঝতে না পারে । কেউ কেউ বলেন, কাফেরেরা শিশ দিয়ে, তালি বাজিয়ে এবং নানারূপ শব্দ করে কোরআন শ্রবণ থেকে মানুষকে বিরত রাখার প্রস্তুতি নিয়েছিল। [সংক্ষেপিত মাআরিফুল কোরআন -১২০৪ পৃঃ]

ভাবুন আপনি কি করছেন? মিউজিক বাজনা আপনাকে বিরত রাখে কোরআন তেলায়াওয়াতের শান্তি থেকে। আরও বিরত রাখে জিকিরের পবিত্রতা থেকে। আল্লাহকে স্মরণ করা থেকে ভুলিয়ে রাখে। প্রিয় নবী (সা) এর বিরোধিতা করত জারা, যারা তাঁকে কষ্ট দিয়েছে, তাঁর অন্তরকে আঘাত দিয়েছে, তাদের বানোয়াট আর তৈরি এই মিউজিক বাজনা নিয়ে মজে আছেন আপনি? আসুন আজই তওবা করি৷

গানের বদলে “লাব্বাইক আল্লাহ হুম্মা লাব্বাইক” ধ্বনি শুনি।  বিশ্বাস করুন গান ফেইল। গান আপনার বাজে মক্নে হবে। আসুন বেশি করে কোরআন তেলাওয়াত শুনি। গান এর ধারের কাছেও আসতে পারবে না। আর মিউজিক তো মাথা ব্যাথার কারণ। একটা রোগের কারণ বাজে মিউজিক।

আসুন হারাম কে হারামই বলি, কোন অজুহাত না দেই, টিভি, সিরিয়াল বাদ দিই একদম।

চলুন বাদ দেই ফোনের এলার্ম বাজা রিংটোনটাও। রিংটোন এর বদলে Nasheed(music free) এড করি। Add করি, Nasheed ‘Allahu akbar’ এটা আপনাকে আল্লাহকে ভুলিয়ে রাখবে না বরং আরও বেশি করে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দিবে।

Print Friendly, PDF & Email


'আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক'
প্রবন্ধের লেখা অপরিবর্তন রেখে এবং উৎস উল্লেখ্য করে
আপনি Facebook, Twitter, ব্লগ, আপনার বন্ধুদের Email Address সহ অন্য Social Networking ওয়েবসাইটে শেয়ার করতে পারেন, মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন। "কেউ হেদায়েতের দিকে আহবান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে প্রত্যেকের সমান সওয়াবের অধিকারী সে হবে, তবে যারা অনুসরণ করেছে তাদের সওয়াবে কোন কমতি হবেনা" [সহীহ্ মুসলিম: ২৬৭৪]

Donate

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.