ইসলামের দৃষ্টিতে গান বাজনা

0

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি-

Song
গান-বাজনা

লেখক : ফাজলে রাব্বী

ওয়েব সম্পাদনা : মুহাম্মদ সাগর হোসেন

বর্তমান যুগে গান-বাজনা আমাদের সমাজ জীবনের একটি Compulsory চাহিদা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গানশুনে না এমন লোক খুঁজে পাওয়াই মুশকিল। কচি বাচ্চা থেকে শুরু করে বয়স্ক বুড়ো পর্যন্ত সকলে এই গান বাজনা পছন্দ করে। এই গান বাজনা আমাদের এমন ভাবে গ্রাস করেছে যে অবসর পেলেই আমরা গান শোনায় ব্যস্ত থাকি। ইদানিং দেখা যায় তরুণ হোক অথবা বয়স্ক সকলের কানেই হেড ফোন রয়েছে। বাসে, ঘাটে, শপিং মলে সকল স্থানে প্রায় সব বয়সের মানুষের কানেই শোভা পায় হেড ফোন।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই কাজের দ্বারা আমরা কি লাভবান হচ্ছি না ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি?

 

আসুন একটু বিশ্লেষণ করে দেখিঃ গবেষণায় জানা গেছে- যারাদীর্ঘক্ষণ কানে হেড ফোন লাগিয়ে গান শুনতে থাকে তাদের কানে ব্যাকটেরিয়া জমতে থাকে। এই ব্যাকটেরিয়া ধীরে ধীরে তার শ্রবণ শক্তিকে কময়ে দেয়। এবং কানের ভিতরে একটি Blockage সৃষ্টি করে। কানের সাথে মস্তিস্কের যোগাযোগক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এমনকি ঐ  ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে কানেরত্বকে ক্যানসার পর্যন্ত হতে পারে। যদিও এই ক্যানসার হওয়ার সম্ভবনা কম  তথাপি একে একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না। যারা সচেতন ব্যক্তি তাদের সাবধান হওয়া উচিৎ।

এছাড়াও রয়েছে শব্দতরঙ্গের এক বিরুপ প্রতিক্রিয়া। যারা উচ্চঃস্বরে গান শুনতে থাকে তাদের কান ভীষণ ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। যখন তারা গান শুনে তখন একের পর এক শব্দ তরঙ্গ তাদের কানের পর্দায় আঘাত করতে থাকে। কানের এই পর্দা বা ঝিল্লি খুবই নমনীয়, এটা খুবই Sensitive. এভাবে গান শোনার ফলে অচিরেই তাদের কানের শ্রবণ শক্তি হ্রাস পায়। ফলে তাদের সাথে কথা বলতে গেলে  উচ্চঃস্বরে কথা বলতে হয়ে নইলে তারা স্পষ্ট শুনতে পায় না। এছাড়াও দেখা দেয় মানসিক বিকৃতি, স্মরণ শক্তির হ্রাস এবং মেজাজ খুব খিটখিটে হয়ে যায়। এই ধরণের মানুষেরা কি সকলের কাছে জনপ্রিয়তা পাবে নাকি জনপ্রিয়তা হারাবে?

এই তো গেল পার্থিব জীবনের ক্ষতি। এবার আসুন একটু দেখি পরকালীন জীবনের কি কি ক্ষতি রয়েছে। যে জীবন চিরস্থায়ী সে জীবন সম্পর্কে কি আমরা একটু সচেতন হবো না।

গান-বাজনা এমন একটা বিনোদন যা সম্পূর্ণ ভাবে ছেড়ে দেয়া মানুষের পক্ষে খুবই দুষ্কর। তবে যদি কেউ মন থেকে চেষ্টা করে তবেসে তা অবশ্যই পারবে। অন্তরে যার আল্লাহ্‌র ভয়, জাহান্নামের আগুনের ভয় আছে তারপক্ষে এটা ত্যাগ করা কোন কঠিন বিষয় নয়।

যখন কাউকে এই গান-বাজনা সম্পর্কে নিষেধ করি তখন তারা এক কথায় এটা মানতে চায় না। তখন তাদের এটা বোঝানো খুবই মুশকিল হয়ে পরে।

আল্লাহ্‌র চেয়ে অধিকজ্ঞান রাখে কোন বিজ্ঞানী?

এই গান-বাজনাতে যদি কোন কল্যাণ থাকত তবে সেই মহান বিজ্ঞানী এটা আমাদের জন্য হারাম করতেন না। যদি এতে কোন কল্যাণ-অকল্যাণ কোনটাই না থাকত সেক্ষেত্রেও আল্লাহ্‌  গান-বাজনা আমাদের জন্য হারাম করতেন না। বস্তুত এই গান-বাজনাতে রয়েছে অকল্যাণ আর অকল্যাণ তাই তিনি এটা আমাদের জন্য হারাম করেছেন।

মহান আল্লাহ্‌ এরশাদ করেছেন,

“এক শ্রেণীর লোক আছে যারা মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে গোমরাহ করার উদ্দেশে অবান্তর কথা-বার্তা সংগ্রহ করে এবং আল্লাহ্‌কে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে। এদের জন্য রয়েছে অবমাননাকর শাস্তি।  যখন ওদের সামনে আমার আয়তসমূহ পাঠ করা হয়, তখন ওরা দম্ভের সাথে এমন ভাবে মুখ ফিরিয়ে নেয়, যেন ওরা তা শুনতেই পায়নি অথবা যেন ওদের দু’কান বধির। সুতরাং ওদেরকে কষ্টদায়ক আযাবের সংবাদ দাও। যারা ঈমান আনে আর সৎ কাজ করে তাদের জন্য রয়েছে নেয়ামতে ভরা জান্নাত। (সুরা লুকমানঃ ৬-৮)

 

এই আয়াতে আল্লাহ্‌ বলেছেন যখন ওদের সামনে আমার আয়তসমূহ পাঠ করা হয়, তখন ওরা দম্ভের সাথে এমনভাবে মুখ ফিরিয়ে নেয়, যেন ওরা তা শুনতেই পায়নি অথবা যেন ওদের দু’কান বধির। সুতরাং ওদেরকে কষ্টদায়ক আযাবের সংবাদ দাও। আসলে কথাটি ঠিক। যখন’ই কোন গান-বাজনায় মশগুল লোককে আল্লাহ্‌র আয়াত শোনানো হয় তখন তারা দম্ভের সাথে এমন ভাবে মুখ ফিরিয়ে নেয়, যেন ওরা তা শুনতেই পায়নি অথবা যেন ওদের দু’কানবধির। আর এই আচরণের সাস্তি হিসেবে আল্লাহ্‌ বলেছেন-  সুতরাং ওদেরকে কষ্টদায়ক আযাবের সংবাদ দাও।

অতএব এরপরও কি আমরা সাবধান হবো না?

 

আমাদের মধ্যে অনেকেই রয়েছে যারা নামাজ পড়ে, রোজা রাখে আবার গান-বাজনাতেও লিপ্ত থাকে। তারা আল্লাহ্‌র এই আয়াত মেনে চলছে না। আমি বুঝি না একজন নামাজী ব্যক্তি কিভাবে গান-বাজনায় লিপ্ত থাকতে পারে?

গান-বাজনা হারাম হওয়ার প্রসঙ্গে অনেক হাদিস রয়েছে। তার কিছু আমি নিম্নে উল্লেখ করছিঃ

  • গান-গায়িকা এবং এর ব্যবসাও চর্চাকে হারাম আখ্যায়িত করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদকরেন-তোমরা গায়িকা (দাসী) ক্রয়-বিক্রয় কর না এবং তাদেরকে গান শিক্ষা দিও না। আর এসবের ব্যবসায় কোনো কল্যাণ নেই। জেনে রেখ, এর প্রাপ্তমূল্য হারাম। [জামে তিরমিযী হাদীস : ১২৮২; ইবনে মাজাহ্ হাদীস : ২১৬৮]

বর্তমানে গান ও বাদ্যযন্ত্রের বিশাল বাজার তৈরি হয়েছে যাতে কোটিকোটি টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছে। মনে রাখতে হবে, বিভিন্ন কোম্পানি থেকে স্পন্সার করা হচ্ছে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গায়িকা ক্রয় করার জন্য আর আমাদের দেশে সেই গায়িকা তৈরি করার জন্য লাখ লাখ টাকা খরচ করে আয়োজন করা হয় ক্লোজ আপ ওয়ান, মেরিডিয়ান ক্ষুদে গানরাজ আরো কতো কি!!!

মেরিডিয়ান ক্ষুদেগানরাজ” এর মত প্রোগ্রামে ছোট বয়স থেকেই বাচ্চাদের হারাম শিক্ষা দেয়া হচ্ছে। এইধরণের কাজ পুঁজি করে যারা উপার্জন করেছে এর সকল উপার্জন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীস অনুযায়ী সম্পূর্ণ হারাম।

  • রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও ইরশাদ করেন, আমার উম্মতের কিছু লোক মদের নাম পরিবর্তন করে তা পান করবে। আর তাদের মাথার উপর বাদ্যযন্ত্র ও গায়িকারমনীদের গান বাজতে থাকবে। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে যমীনে ধ্বসিয়ে দিবেন। [সুনানে ইবনে মাজাহ হাদীস : ৪০২০; সহীহ ইবনে হিব্বান হাদীস : ৬৭৫৮]

বাজনাদার নুপুর ও ঘুঙুরের আওয়াজও সাহাবায়ে কেরাম বরদাশত করতেন না। তাহলে গান ও বাদ্যযন্ত্রের প্রশ্নই কি অবান্তর নয়? নাসাঈও সুনানে আবু দাউদে বর্ণিত আছে,

  • একদিন হযরত আয়েশা রা.-এর নিকট বাজনাদার নুপুর পরে কোনো বালিকা আসলে আয়েশা রা. বললেন, খবরদার, তা কেটে না ফেলা পর্যন্ত আমার ঘরে প্রবেশ করবে না। অতঃপর তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ঘরে ঘণ্টি থাকে সেইঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করে না। [সুনানে আবু দাউদ হাদীস : ৪২৩১; সুনানে নাসাঈ হাদীস : ৫২৩৭]
  • সহীহ মুসলিমে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ঘণ্টি,বাজা, ঘুঙুর হল শয়তানের বাদ্যযন্ত্র।
    [সহীহ মুসলিম হাদীস : ২১১৪]

আর আল্লাহ্‌ পবিত্র কুরআনে বলেছেন,

“হে ঈমানদারগণ! তোমারা ইসালামে পরিপূর্ণ ভাবে প্রবেশ কর আর শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ  করো না।”  [সুরা বাকারাঃ ২০৮]

 

আল্লাহ্‌ আমাদের ইসলামে পরিপূর্ণ ভাবে প্রবেশ করতে বলেছেন। এখন আমি ৫ ওয়াক্ত নামাযও পড়ব আবার গান-বাজনাতে লিপ্ত থাকব এমনটা করলে হবে না। আমাদেরকে অবশ্যই শয়তানের পদাঙ্কের অনুসরণ বর্জন করতে হবে। কেউ যদি কারো Foot print অনুসরন করে এগুতে থাকে তবে এক সময় সে ঐব্যক্তির গন্তব্য স্থলে পৌঁছে যাবে। আর আমরা সবাই জানি শয়তানের শেষ গন্তব্য স্থল হলো জাহান্নাম। একথা স্পষ্ট ভাবে উপলব্ধি করার পরও যদি কেউ শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে থাকে তাহলে সে ও জাহান্নামে পতিত হবে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি মৃদু আওয়াজের ঘণ্টি-ঘুঙুরকে হারাম করে দেন তাহলে আধুনিক সুরেলা বাদ্যযন্ত্রের যার আওয়াজ অত্যান্ত তীব্র তা কি করে হালাল হতে পারে?

বর্তমানে এক শ্রেণীর নামে মাত্র মুসলিম রয়েছে যারা এই গান-বাজনাকে হালাল মনে করে। তারা এই বিসয়ে অনেক যুক্তিউপস্থাপন করে থাকে। তারা একটা প্রবাদ বাক্যেকে উদাহরণ হিসেবে পেশ করে থাকে। তা হলঃ

“সুর যদি  হারাম হত বিল্লাল কি আর আজান দিত।”

 

কিন্তু সত্যি কথা বলতে এটি হচ্ছে একটি ভিত্তিহীন কথা। এটি কোন হাদিস নয়। আজানের সাথে গান-বাজনার কোন সম্পর্ক নেই। আজানের সাথে গান-বাজনাকে তুলনা করাই একটি মারাত্মক অপরাধ। তারা তাদের মনের খায়েশ মিটানোর জন্য বিভিন্ন খোঁড়া যুক্তি দিয়ে গান-বাজনাকে হালাল করতে চায়। এটি তাদের অন্তরের বক্রতা।

সাহল বিন সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেনঃ

سَيَكُوْنُ فِيْ آخِرِ الزَّمَانِ خَسْفٌ وَقَذْفٌ وَمَسْخٌ ، قِيْلَ: وَمَتَى ذَلِكَ يَا رَسُوْلَ اللهِ ؟ قَالَ: إِذَا ظَهَرَتِ الْمَعَازِفُ وَالْقَيْنَاتُ

“অচিরেই শেষ যুগে দেখা দিবে ভূমি ধস, নিক্ষেপ ও বিকৃতি। রাসূল (সাঃ) কে জিজ্ঞাসা করা হলোঃ হে আল্লাহ্’র রাসূল! তা কখন? তিনি বললেনঃ যখন বাদ্যযন্ত্রও গায়ক-গায়িকারা বেশি হারে প্রকাশ পাবে। (ইবনে মাজাহ্- ২/১৩৫০। সহীহুল জামি-৩৫৫৯)

অপর হদিসে আছে- শুধু বাদ্যযন্ত্র যে ছড়িয়ে পড়বে তা নয়। বরং তা হালালও মনে করা হবে।

আবু আমির আশআরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেন,

لَيَكُوْنَنَّ مِنْ أُمَّتِيْ أَقْوَامٌ يَسْتَحِلُّوْنَ الْحِرَ وَالْحَرِيْرَ وَالْخَمْرَ وَالْمَعَازِفَ

অর্থাৎ “আমার উম্মতের মধ্যে এমন কিছু লোকের আবির্ভাব ঘটবে যারা ব্যভিচার, সিল্কের কাপড় পরিধান, মদ্য পান ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল মনে করবে।” (বুখারী, হাদীস ৫৫৯০)

 

বর্তমান যুগের গান-বাজনা, সিনেমা, নাটক, নায়ক-নায়িকাদের অবাধ মেলা-মেশা, কিভাবে বাবা-মা, সমাজকে ফাকি দিয়ে অবৈধ প্রেম করতে হবে এগুলোই প্রচার প্রসার করা হয় এসবের মাধ্যমে। কিছু গান রয়েছে যেগুলোর মাধ্যম যৌন উত্তেজনা অনুভূত হয়। আর এভাবেই যুব সমাজের চরিত্র নষ্ট হয়। এর ফলে সমাজে দেখা দেয় অবক্ষয়।

একটি সমাজ ধ্বংস করার জন্য কোন আগ্নেয়াস্ত্রের প্রয়োজন নেই শুধু ঐ সমাজের যুবক-যুবতীদের চরিত্র নষ্ট করে দিলেই যথেষ্ট।

 

এখানে আর একটু কথা বলে রাখিঃ গান-বাজনা সংক্রান্ত সালফে-স্বলিহীনদের একটি মত রয়েছে যেখানে তারা গান-বাজনা কে হালাল করেছেন। অনেকেই বর্তমান যুগের গান-বাজনা হালাল করার জন্য  সালফে-স্ব-লিহীনদের সেই মতটি পেশ করে থাকে।  কিন্তু সালফে-স্বলিহীনদের সেই মত অনুযায়ী বর্তমান যুগের গান-বাজনা কোন মতেই হালাল হতে পারে না।

ইবনে কাসির (র) এর মত অনুযায়ী- কিছু গান হালাল হতে পারে তবে সেই গানে থাকবে না কোন কুফুরী কথা-বার্তা,কোন শির্কী কথা-বার্তা থাকবে না, কোন যৌন সুড়সুড়িমূলক কথা-বার্তা থাকলে তাও হারাম হবে এবং আরো থাকতে পারবে কোন অবান্তর কথা-বার্তা মূলক গান।

কোন  গঠনমূলক এবং সচেতনতা মূলক কথা-বার্তা দিয়ে যদি সুর যুক্ত করে কেউ গান বানায় তবে তা জায়েজ।

আর বাজনার ক্ষেত্রে-বর্তমান যুগের মিউজিক সম্পূর্ণ হারাম। ধুপ তথা একমুখী ঢোল হালাল করা হয়েছে। এর প্রমান একাধিক হাদিসে রয়েছে। এছাড়াও পানি পড়ার শব্দ, পাখির ডাক অথবা প্রাকৃতিক অন্য কোন শব্দ ইত্যাদি গানের সাথে যুক্ত করা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে এটা হারাম হবে না।

কিন্তু বর্তমান যুগের প্রায় সকল গানই প্রেম বিষয়ক এবং এই গান গুলোতে যৌন সুড়সুড়িমূলক কথা-বার্তা রয়েছে। কিছু কিছু গানে শির্ক পর্যন্ত রয়েছে।

অনেকে মনে করে থাকবেন যদি কোন গানে শির্ক-কুফুরী এবং যৌন আবেদন মূলক কোন কথা-বার্তা না থাকে শুধু অবান্তর কথা-বার্তা দিয়ে গান তৈরি করা হয় তবে তা জায়েজ হবে।

জী না! অবান্তর কথা-বার্তা দিয়ে তৈরিকৃত গান জায়েজ হবে না।

গান বাজনাকে পবিত্র কুরানের সুরা লুকমানের আয়াত ৬-এ মহান আল্লাহ্‌ অবান্তর কথা-বার্তা হিসেবেই এরশাদ করেছেন।

সর্বোপরি, গান-বাজনা কুফল এত বেশি যে, যে কেউ গান-বাজনায় লিপ্ত থাকতে সেই গান আমাদের অন্তরে গেঁথে যায়। মাঝে মাঝেই সে নিজের অজান্তেই মনেমনে গান গাইতে থাকে, তার মন গুন-গুন করতে থাকে, মনকে উচ্ছ্বাসিত করে তোলে। এর ফলে সে সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদাত সালাতে মনোযোগ দিতে পারে না। আল্লাহ্‌র কথা, আখিরাতের কথা স্মরণ হয় না। সে সব সময় আনন্দে মশগুল থাকে। আল্লাহকে কম কম স্মরণ করে।  এভাবে সে আল্লাহ্‌ পথের দিকে ফিরতে পারে না। এ কথাই মহান আল্লাহ্‌ বলেছেন,

“এক শ্রেণীর লোক আছে যারা মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে পথভ্রষ্ট করার উদ্দেশে অবান্তর কথা-বার্তা  সংগ্রহ করে   এবং আল্লাহ্‌কে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে। এদের জন্য রয়েছে অবমাননাকর শাস্তি।”  (সুরা লুকমানঃ ৬)

 

গান-বাজনায় মশগুল থাকলে আল্লাহ্‌ পথ থেকে পথভ্রষ্ট হয়ে যাব। আমরা প্রতি রাকাত সালাতে আল্লাহ্‌ কাছে সঠিক সরল পথ চাই, নিয়ামত ভরা পথ চাই, পথভ্রষ্টতা থেকে বাঁচতে চাই, আজাব-গজব থেকে বাঁচতে চাই। অথচ গান-বাজনায় আল্লাহ্‌র নিষেধ থাকা সত্ত্বেও পথভ্রষ্টতা সংগ্রহ করছি।

তাহলে নামাজ পড়েও গান-বাজনায় মশগুল থাকে কি এক-ই সঙ্গে সরল পথ  এবং পথভ্রষ্টতা সংগ্রহ করা হলে না?

আমরা কি আমাদের মনেগুন-গুন করে গান গাইতে চাই নাকি আমাদের অন্তরকে আল্লাহ্‌র জিকিরে ব্যস্ত রাখতে চাই? আল্লাহ্‌ তো বলেছেন,

“নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌র জিকর দ্বারা অন্তর সমূহ শান্তি পায়”। [সুরা আর রা’দঃ ২৮]

 

পক্ষান্তরে গান-বাজনা অন্তরকে উচ্ছ্বাসিত করে তোলে।

হে  মুসলিম! তুমি বোঝ না-পরকালীন জীবনই তো আমাদের আসল জীবন। সেই আসল জীবন থেকে যা আমাদের গাফেল করে রাখে তা কি আমরা পরিত্যাগ করব না?

হাশরের মাঠে কে আমাদের সাহায্য করবে আল্লাহ্‌ ছাড়া?

আমরা যদি আল্লাহকে স্মরণ করি তবেই তোআল্লাহ্‌ আমাদের স্মরণ রাখবেন। মহান আল্লাহ্‌ বলেন,

“সুতরাং তোমরা আমাকে স্মরণ কর, আমিও তোমাদের স্মরণ রাখব। আমার কৃতজ্ঞটা প্রকাশ কর, অকৃতজ্ঞও হয়োনো।” [সুরা বাকারাঃ ১৫২]

 

কিন্তু এই গান-বাজনাই হচ্ছে আল্লাহ্‌কে স্মরণের পথে বাঁধা।
Print Friendly, PDF & Email


'আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক'
প্রবন্ধের লেখা অপরিবর্তন রেখে এবং উৎস উল্লেখ্য করে
আপনি Facebook, Twitter, ব্লগ, আপনার বন্ধুদের Email Address সহ অন্য Social Networking ওয়েবসাইটে শেয়ার করতে পারেন, মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন। "কেউ হেদায়েতের দিকে আহবান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে প্রত্যেকের সমান সওয়াবের অধিকারী সে হবে, তবে যারা অনুসরণ করেছে তাদের সওয়াবে কোন কমতি হবেনা" [সহীহ্ মুসলিম: ২৬৭৪]

Donate

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.