দুনিয়ার প্রতি গভীর ভালবাসা

0

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি-

love to world

দুনিয়ার প্রতি গভীর ভালবাসা, দুনিয়া প্রীতিই হচ্ছে সব পাপের মূল! দুনিয়ার মিষ্টতা পরকালের জন্য তেতো, আর দুনিয়ার তেতো পরকালে তা সুমিষ্ট।

দুনিয়া পাগল লোকদেরকে দেখলে মনে হয় যেন শুধু আনন্দ ফুর্তি ও ভোগ বিলাসের জন্যই সৃষ্টি করা হয়েছে! দুনিয়ার প্রতি কতিপয় লোকের এই হলো দৃষ্টিভঙ্গি!

দুনিয়াবি সফলতার সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠার জন্য আমরা প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করছি! দুনিয়াসক্তি আমাদের এত বেশি হয়ে গেছে যে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোকে বেমালুম ভুলে বসে আছি! কিন্তু আমরা ভুলে গেলেই কি সময় আমাদের ভুলে যাবে, সময় হলেই তো মৃত্যুর সুধা পান করতে হবে, আর মৃত্যুর সাথে সাথেই কবরের অন্ধকার ও তার সঙ্কীর্ণতা আমাদেরকে বরণ করে নিবে!

দুনিয়া সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

“দুনিয়ার সাথে আমার কী সম্পর্ক? এ দুনিয়ার সাথে আমার দৃষ্টান্ত হলো এমন এক অশ্বারোহীর ন্যায় যে গ্রীষ্মের একদিন এক বৃক্ষ-ছায়ায় ঈষৎ নিদ্রা গেল, তারপর কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে সেখান থেকে চলে গেল।” (কিতাবুয যুহদ: ৩৪,৬৪,৭২)

হাদিসটি হৃদয়ে দাগ কাঁটার মত!

আমরা সকালে ঘুম উঠেই কেউ না কেউ এই দুনিয়া নামক রহস্যের পিছনে ছুটছি! যেন আমরা পৃথিবীতে এসেছিই রহস্য উদঘাটন করতে! এভাবে একদিন দুনিয়ার পিছনে ছুটতে ছুটতে শৈশব, কৈশোর, ও তারুণ্যের সিড়ি বেয়ে বার্ধক্যে পৌঁছে যাবো! আমরা দুনিয়ার মোহে এতটাই মগ্ন, মাতাল যে, এই মাতলামী চলে রাত পর্যন্ত! নিজেকে নিয়ে আমরা এত বেশী ব্যস্ত হয়ে পড়েছি , যেন দুনিয়া আমাদের নেশা, এই নেশায় আমরা বুদ হয়ে আছি, অর্থাৎ দুনিয়াখোর!

ক্রমান্বয়ে দুনিয়ার প্রতি এই আসক্তি বেড়েই চলছে আর দুনিয়ার লোভেই ঝুঁকে পড়ছি। তা না হলে কেনোই বা আজকাল আমরা অনর্থক ঝগড়া বিবাদ করি, কেনোই বা হতাশ হয়! প্রতিমূহুর্তে লাভ লোকসানের হিসেব নিয়ে কেনোই বা পড়ে থাকব! শুধু কি তাই, সাধ পূরণ না হলেও আমরা ভীষণ মুষড়ে পড়ি!

দুনিয়াবি চিন্তা আমাদের এতটাই নিচে নামিয়েছে যে নিজেকে জাহির করার জন্য সদা ব্যস্ত থাকি, অতিমাত্রাই নিজেকে প্রকাশ করা এটা যেন আমাদের সহজাত প্রবৃত্তি হয়ে দাড়িয়েছে! দিনকে দিন আমাদের অন্তকরণ কঠিন হয়ে পড়ছে, তা না হলে মুসলমানদের সমস্যার ব্যপারে আমরা সম্পূর্ণ উদাসীন! অন্তরে এর কোন প্রভাবও পড়ে না! এমন কি কোথাও কোন হারাম কাজ সংঘটিত হলেও অন্তরে কোন ক্রোধের সঞ্চার হয় না।

ঘরে থাকা আসবাবপত্রে ঘুণপোকা যেমন ধিরে ধিরে সব কিছু গ্রাস করে ফেলে, দুনিয়াবি চিন্তাভাবনাও ঠিক তেমনি, আমাদেরকে নিঃশেষ করে দিচ্ছে! আর শয়তানও আমাদেরকে ধোঁকা দিয়ে যাচ্ছে! কারণ দুনিয়া যেখানে শয়তানও সেখানে! অথচ এই দুনিয়ার কোন মূল্যই আল্লাহ তা’য়ালার কাছে নেই। তাই দুনিয়া পাগল লোকদেরকে দুনিয়ার কাছেই ছেড়ে দিন! আর নিজেকে আল্লাহর কাছে আত্মসর্মপন করুন!

যেমনটি এই হাদিসে এসেছে,

(ভাগাড়ে পড়ে থাকা একটি মৃত ভেড়া দেখিয়ে) রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

“ফেলে দেওয়ার সময় মালিকের নিকট এ ভেড়াটি যত তুচ্ছ মনে হয়েছে, আল্লাহ তাআলা’র নিকট দুনিয়া তার চেয়েও অধিক তুচ্ছ।” প্রাগুক্ত,১১৯

মুহাজির ইবনু হাবীব (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণীত, ‘মাসীহ ঈসা ইবনু মারইয়াম (আলাইহিস সালাম) বলতেন,

“ওহে হাওতারিগণ! নিজেদেরকে ধ্বংস করে দুনিয়া তালাশ করো না ; বরং দুনিয়া বর্জন করে নিজেদের [রহস্য] অনুসন্ধান করো। খালি গায়ে এসেছো, আবার খালি গায়ে চলে যেতে হবে। আগামীকালের রিযিক [আজকে] অনুসন্ধান করো না; আজকে যা আছে তা দিয়ে আজকের দিনটি চলে যাবে; আগামীকাল আসবে তার নিজস্ব ব্যস্ততা নিয়ে। আল্লাহর নিকট তোমরা চাও-তিনি যেন তোমাদেরকে প্রতিদিনের রিযক প্রতিদিন ব্যবস্থা করে দেন।”

নিজের দিকে একবার তাকিয়ে ভাবুন’তো আপনি কোনদিকে আছেন? আর আল্লাহ তা’য়ালা আপনাকে কিসে ব্যস্ত রেখেছেন?

Print Friendly, PDF & Email


'আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক'
প্রবন্ধের লেখা অপরিবর্তন রেখে এবং উৎস উল্লেখ্য করে
আপনি Facebook, Twitter, ব্লগ, আপনার বন্ধুদের Email Address সহ অন্য Social Networking ওয়েবসাইটে শেয়ার করতে পারেন, মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন। "কেউ হেদায়েতের দিকে আহবান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে প্রত্যেকের সমান সওয়াবের অধিকারী সে হবে, তবে যারা অনুসরণ করেছে তাদের সওয়াবে কোন কমতি হবেনা" [সহীহ্ মুসলিম: ২৬৭৪]

Donate

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.