জুমুয়াহর দিন দুয়া কবুলের সময়টাতে বেশি করে দুয়া করা

0

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি-

Jummah

জুমুয়ার দিন সংক্ষিপ্ত একটা সময় আছে, ঐ সময়ে বান্দা যা চাইবে তাই দেওয়া হয়। কিছু আলেমের মতে সেই সময়টা হচ্ছে ইমাম খুতবার জন্য মিম্বরে বসা থেকে নামায শেষ হওয়া পর্যন্ত সময়টা।

অন্য আলেমদের মতে সেটা আসরের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত। দুই দল আলেমই তাদের পক্ষে দলিল ও যুক্তি পেশ করেছেন, যাই হোক সর্বোত্তম হচ্ছে এই দুই সময়েই বেশি বেশি করে নিজের, পরিবারের ও সমস্ত মুসলমানদের জন্য দুয়া করা।

তবে আসরের পরে দিনের শেষের দিকে, এই মতটা শক্তিশালী যার পক্ষে সহীহ হাদীস রয়েছে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

“জুমুআহর দিনের বার ঘন্টার মধ্যে একটি বিশেষ মুহূর্ত রয়েছে, তখন কোন মুসলমান আল্লাহর নিকট যেই দুআ’ করে আল্লাহ তাই কবুল করেন। তোমরা সেই মুহূর্তটিকে আসরের শেষে অনুসন্ধান কর।”

[সুনানে নাসাঈ, সুনানে আবু দাউদঃ ১০৪৮, হাদীসটি সহীহ, শায়খ আলবানী (রহঃ)]

আ’বদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বসে থাকা অবস্থায় আমি বললাম, আমরা আল্লাহর কিতাবে জুমুআ’হর দিনের এমন একটি মুহূর্ত সম্পর্কে উল্লেখ পেয়েছি যে,

সেই মুহূর্তে কোন মু’মিন বান্দা সালাতরত অবস্থায় আল্লাহর নিকট কিছু প্রার্থনা করলে, তিনি তার প্রয়োজন পূরণ করেন। আ’বদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম আমার দিকে ইশারা করে বললেন, সেটা এক ঘণ্টার সামান্য সময় মাত্র।

আমি বললাম, আপনি যথার্থই বলেছেন, এক ঘণ্টার সামান্য সময়ই। আমি বললাম, সেটি কোন মুহূর্ত? তিনি বলেন, সেটি হলো দিনের শেষ মুহূর্ত। আমি বললাম, তা সলাতের সময় নয়? তিনি বলেন, হাঁ। মু’মিন বান্দা এক সলাত শেষ করে বসে বসে অন্য সলাতের প্রতীক্ষায় থাকলে সে সলাতের মধ্যেই থাকে।

[ইবনে মাজাহঃ ১১৩৯, মুসনাদে আহমাদঃ ২৩২৬৯, মিশকাতঃ ১৩৫৯, হাদীসটি ‘হাসান সহীহ’, শায়খ আলবানী (রহঃ)]

সুতরাং দুয়া কবুলের সময়টা পাওয়ার জন্য উত্তম হচ্ছে, আসরের সালাত আদায় করে জায়নামাযেই বসে থেকে মাগরিবের সালাতের জন্য অপেক্ষা করা এবং বেশি বেশি দুয়া করা, বিশেষ করে দিনের শেষের ঘন্টায় অধিক পরিমানে দুয়া করা।

সুরা কাহাফ পড়া:

ফেইসবুকে বোকা লোকদের লেখা পড়ে বা ছবি দেখে, টিভিতে হারাম ও অশ্লীল অনুষ্ঠান দেখে, বয়ফ্রেন্ড ও গার্লফ্রেন্ডের শয়তানী ধোঁকায় পড়ে বা বেহুদা আড্ডা ও খেলাধূলার পেছনে সময় নষ্ট না করে জুমুয়াহর দিনে যদি অন্তত সুরা কাহাফের অন্তরলত ১০টা/২০টা আয়াতও পড়তে পারেন, তাহলে সেটা আপনার দুনিয়া ও আখেরাতের জন্য অনেক বেশি কল্যানকর হবে।

আল্লাহ আমাদেরকে বুঝার ও মানার তোওফিক দান করুন, আমিন।

সহীহ হাদীস অনুযায়ী সুরা কাহফের মর্যাদা:

১. সুরা “কাহাফের” প্রথম দশ আয়াত মুখস্ত করলে দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচা যায়। [সহীহ মুসলিম]

২. “জুমুয়ার দিনে” সুরা কাহাফ পড়লে পরবর্তী জুমুয়াহ পর্যন্ত ঐ ব্যাক্তির জন্য একটি বিশেষ জ্যোতি আলোকিত হয়ে থাকবে মুস্তাদরাক হাকেম, সহিহুল জামে।

৩. সুরা কাহাফের তিলওয়াত করলে বাড়িতে শান্তি ও বরকত নাযিল হয়। [সহীহ বুখারি ও সহীহ মুসলিম]

আল্লাহ আমাদেরকে জুমুয়াহর দিনের হক্ক আদায় করার তোওফিক দান করুন, এবং আমাদের দুয়াগুলো কবুল করে নিন, আমিন।

Print Friendly, PDF & Email


'আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক'
প্রবন্ধের লেখা অপরিবর্তন রেখে এবং উৎস উল্লেখ্য করে
আপনি Facebook, Twitter, ব্লগ, আপনার বন্ধুদের Email Address সহ অন্য Social Networking ওয়েবসাইটে শেয়ার করতে পারেন, মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন। "কেউ হেদায়েতের দিকে আহবান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে প্রত্যেকের সমান সওয়াবের অধিকারী সে হবে, তবে যারা অনুসরণ করেছে তাদের সওয়াবে কোন কমতি হবেনা" [সহীহ্ মুসলিম: ২৬৭৪]

Donate

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.