সুদ হলো বর্তমান বিশ্বে এক মহাফিতনা

0

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি-

Intereses

সুদ পৃথিবীর ইতিহাসে কখনো এতটা বিস্তার করেনি যতটা এখন করেছে। এক সময় খ্রিষ্টান ধর্মে এটা নিষিদ্ধ ছিল তবে যুগের স্বার্থে কয়েক শতাব্দী আগে তাদের ধর্মীয় গুরুরা সেই নিষিদ্ধতা বাতিল করেছে। আর বাকি খ্রিষ্টানরা ইয়াহুদীদের চক্রান্তে পা দিয়ে সুদে জড়িয়ে গেছে। এখন পশ্চিমা বিশ্বের বেশির ভাগ লোকের কাছে উন্নত জীবন যাপনের যাবতীয় সকল সামগ্রী রয়েছে কারন তাদের লোন নেয়া খুব সহজ। গাড়ি, বাড়ি, উচ্চ ডিগ্রি, স্মার্ট ফোন, গেজেট সবকিছুতেই লোন মিলে খুব সহজে। কিন্তু তারা সব কিছু ভোগ করতে পারলেও সত্যিকারের মালিকানা তাদের নেই।

জীবনটা কে এমন ভাবে সাজানো হয়েছে যে একজনকে যাবতীয় সমাগ্রি ভোগের পাশাপাশি দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত তার জীবনের পুরো সময় ও পরিশ্রম সেই লোনের টাকা পরিশোধ করতে লেগে যাবে। জীবনের এখন একটাই উদ্দেশ্য হয়ে গেছে আমার বাড়ি গাড়ি ফোন শিক্ষা লাইফ ইত্যাদির লোন চুকাতে হবে তাই চাই পরিশ্রম। আর এই ভাবে নিজেকে ছাড়া আর কিছু নিয়ে ভাবার সময় নেই, নিজের ব্যক্তিসত্তার বাহিরে বের হতেই পারে না। এভাবেই, কি হচ্ছে দুনিয়ায়, কেন হচ্ছে, আমরাই বা কেন এইখানে ইত্যাদি তাদের জানার বাহিরেই রয়ে যায়। বস্তুবাদী দুনিয়ায় তারা নিজেদের অস্তিত্বকেই একটা বস্তু তে পরিনত করেছে। আর এই জীবনে সুখ বলতে কি? তা আসলে কেউ বুঝতে পারে না।

ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, “আল-কুরআনের সর্বশেষ নাযিলকৃত আয়াত হচ্ছে, রিবা সংক্রান্ত আয়াত”। [বুখারী, ভলি-৬, কিতাব-৬, নং ৬৭।]

উমর (রা) বলেন, “সুদের বিধান হচ্ছে কুরআনের সর্বশেষ নাযিলকৃত বিধান, রাসূল (সা) এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়ার পূর্বেই তার ইন্তেকাল হয়ে গেল। সুতারাং তোমরা সুদ পরিত্যাগ কর আর যা সন্দেহজনক তাও পরিহার কর”। (ইবনে মাজাহ)

রাসুল সা এর ইন্তেকালের প্রায় ৯১ দিন পূর্বে সুদের বিধান নাযিল হয়।

তাই সুদ সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা আমরা জানতে পারিনি। তবে দুঃখ জনক হলো আজ বেশির ভাগ আলেম যখন সুদ নিয়ে ব্যাখ্যা দেন তখন এই হাদিস গুলো কে যথাযথ ভাবে মূল্যায়ন করেন না ফলে সুদের ব্যাপকতা বুঝতে পারেন না। আর সুদ কেও অন্যান্য মাসআলা মাসায়েলের মত মনে করে ফতোয়া দিয়ে দেন।

তাই কাগুজে মুদ্রা, মুদ্রাস্ফীতি, ও অর্থব্যবস্থার মাধ্যমে কিভাবে আজ সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে সুদ ঢুকে গিয়েছে তা চিন্তাও করতে পারেন না। আর এই সুযোগে অনেক আধুনিক শাইখ সকল ক্ষেত্রেই একটু ঘুরিয়ে সুদ কে বৈধতা দিয়ে দেই। মানে তাদের পুরো চেষ্টা থাকে কিভাবে কোন একটু ফাক-ফোঁকর দিয়ে বৈধতা দেয়া যায় কিনা। আল্লাহ মালুম এটা শেষ পর্যন্ত খ্রিষ্টান পণ্ডিতদের মত না হয়ে যায়। তবে আলহামদুলিল্লাহ অনেক আলেম আছেন যারা এখন এই গুমরাহী তে পরেন নি, আর ইনশাআল্লাহ তারা কখনো এটার সাথে আপোষ করবেন না।

হাদিসে আছে শেষ জামানায় সবাই সুদে জড়াবে যে জড়াবে না সুদের ছিটা তাকেও গ্রাস করবে। তাই সন্দেহজনক এমন সকল কিছু থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করতে হবে সেটা হতে পারে কাগুজে মুদ্রা বা ইসলামিক ব্যাংকিং সিস্টেম বা কোন ব্যাংকের দারোয়ান, ড্রাইভার অথবা ব্যাংকের এমন কোন ডিপার্টমেন্ট যেটা সুদের সাথে জড়িত নয়। আর একদম না পারলে কমপক্ষে হারাম কে হারাম বলে বিশ্বাস করতে হবে। কোন ভাবেই সেটা কে হালাল বানানোর স্কোপ খোঁজা যাবে না।

“হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সুদের যে সমস্ত বকেয়া আছে, তা পরিত্যাগ কর, যদি তোমরা ঈমানদার হয়ে থাক। অতঃপর যদি তোমরা পরিত্যাগ না কর, তবে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সাথে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত হয়ে যাও। কিন্তু যদি তোমরা তওবা কর, তবে তোমরা নিজের মূলধন পেয়ে যাবে। তোমরা কারও প্রতি অত্যাচার করো না এবং কেউ তোমাদের প্রতি অত্যাচার করবে না।” (সুরা বাকারা ২৭৮-২৭৯)

হে  আল্লাহ! আমাদের ছোট-বড় ও সন্দেহজনক সকল ধরনের সুদ থেকে দূরে রাখুন। আমিন ইয়া রাব্বাল আলামিন।

Print Friendly, PDF & Email


'আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক'
প্রবন্ধের লেখা অপরিবর্তন রেখে এবং উৎস উল্লেখ্য করে
আপনি Facebook, Twitter, ব্লগ, আপনার বন্ধুদের Email Address সহ অন্য Social Networking ওয়েবসাইটে শেয়ার করতে পারেন, মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন। "কেউ হেদায়েতের দিকে আহবান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে প্রত্যেকের সমান সওয়াবের অধিকারী সে হবে, তবে যারা অনুসরণ করেছে তাদের সওয়াবে কোন কমতি হবেনা" [সহীহ্ মুসলিম: ২৬৭৪]

Donate

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.