শয়তান এর প্ররোচনা, কিভাবে শয়তান আমাদের প্ররোচিত করে এবং তা থেকে বাঁচার উপায়

2

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি-

আমরা অনেক সময় অনেক খারাপ কাজ করে থাকি যেগুলো আমরা জানি হারাম এবং খারাপ কিন্তু আমরা করে ফেলি। এসব ক্ষেত্রে দুটি জিনিষ আমাদের মধ্যে কাজ করে,

১. আমাদের মনের (নফসের) দুর্বলতা!

২. শয়তানের প্ররোচনা!

শয়তান সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,

“হে ঈমানদারগন! তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও এবং শয়তানের পদাংক অনুসরণ কর না। নিশ্চিত রূপে সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।” [সূরা বাকারাঃ ২০৮]

ব্যাপারটা আর ভাল ভাবে বোঝার জন্য শয়তানের history সম্পর্কে আমাদের ধারনা থাকা প্রয়োজন।

শয়তান ছিল খুব অনুগত জ্বিন। তার নাম ছিল আযাযিল। সে তার ভাল কাজের জন্য ৭০ হাজার বছর ইবাদতের পর জান্নাতের প্রধান দায়িত্বশীলের পদ পেয়েছিল। সে জানত যে আল্লাহর এক বান্দাহ্ অনেক পরহেজগার হওয়ার পরেও ইচ্ছাকৃত ভাবে আল্লাহর একটি আদেশ অমান্য করে চিরতরে জাহান্নামি হবে। আযাযিল তাকে আল্লাহর হুকুমে অভিশাপও দিত!

কিন্তু আল্লাহ তায়ালা যখন মাটির তৈরী আদম (আঃ) কে সিজদাহ করতে বললেন তখন অহংকার বশত আযাযিল তা প্রত্যাখ্যান করল এবং অতঃপর আযাযিল আল্লাহ ও তার বান্দাহদের শত্রু হয়ে গেলো।

এই প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়াল বলেন,

“সে(শয়তান) বললঃ আপনি আমাকে যেমন উদভ্রান্ত করেছেন, আমিও অবশ্যই তাদের জন্যে আপনার সরল পথে বসে থাকবো। এরপর তাদের কাছে আসব তাদের সামনের দিক থেকে, পেছন দিক থেকে, ডান দিক থেকে এবং বাম দিক থেকে। আপনি তাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ পাবেন না।” [সূরা আল-আ’রাফঃ ১৬-১৭]

আল্লাহ বললেনঃ

“বের হয়ে যা এখান থেকে লাঞ্ছিত ও অপমানিত হয়ে। তাদের যে কেউ তোর পথে চলবে, নিশ্চয় আমি তোদের সবার দ্বারা জাহান্নাম পূর্ণ করে দিব।” [সূরা আল-আ’রাফঃ ১৮]

এখান থেকে আমরা দুটি জিনিষ দেখতে পাই;

১. শয়তান হলো অভিশপ্ত!

২. এবং সে মানুষকে কেয়ামত পর্যন্ত কুমন্ত্রনা দিতে থাকবে!

রাসুল (স.) বলেন “তোমাদের প্রত্যেকের সাথেই শয়তান ও ফিরিশতাদের মধ্য হতে একজন একজন করে সঙ্গী নির্ধারণ করা হয়েছে!”

মানুষ ভাল কাজ করতে চাইলে ফেরেশতা তাকে সাহায্য করে এবং অনুপ্রেরনা যোগায়। আর শয়তান তাকে কুমন্ত্রনা দেওয়ার চেষ্টা করে এবং মন্দ পথে পরিচালিত করতে চায়।

ব্যপারটা এমন না যে আমরা তাহলে কোন খারাপ কাজ করে ফেললে সেটা শয়তানের দোষ বা আল্লাহ আমাকে দুর্বল ভাবে তৈরী করেছেন। বরং প্রতিদিন আমাদের আরো developed হওয়ার জন্য আল্লাহ তায়ালা আমাদের সাথে একজন করে ফেরেশতা দিয়ে দিয়েছেন।

একটা interesting question করি!

আপনাদের মধ্যে কার কার মনে খারাপ চিন্তা আসে। sexually explicit or dirty thoughts অথবা অন্য কিছু!

বাস্তবতা হলো আমরা কেউই শয়তানের প্ররোচনা থেকে মুক্ত না। এমন কি সবসময় যে সাহাবাগন রাসুল (সাঃ) এর সাথে থাকতেন তারা যখন রাসুল (সঃ) কে বলেছিলেন যে তাদের মনে খারাপ চিন্তা আসে তখন রাসুল (সাঃ) বলেছিলেন “this is the essence of Imaan”.

অর্থাৎ আপনার মধ্যে ঈমান আছে এবং ভালো কিছু করার সক্ষমতা আছে বলেই শয়তান আপনাকে distract করতে চায়।

শয়তানের এই distraction পলিসির মধ্যে অন্যতম কয়েকটি ব্যাপার হলো,

  • ১. opposite এ এর প্রতি আমাদের inclination তৈরী করা যা স্বভাবগত ভাবে এমনিতেই প্রতিটা ছেলের মধ্যে থাকে। এক্ষেত্রে আমাদের নিজেদের দৃষ্টিকে নত করতে হবে এবং বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহ তায়ালার কাছে সাহায্য চাইতে হবে “আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতনির রাযিম।” আল্লাহ তায়াল বলেন “মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গর হেফাযত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন।”
  • ২. অযুর মধ্যে সন্দেহ তৈরী করে যেমন অযু আছে নাকি নাই। বা হয়তো ঠিক ভাবে করা হয় নাই (এই শয়তানের নাম হল ওলাহন)। এভাবে শয়তান আমাদের দ্বীনের ব্যাপারে বিরক্ত করতে চায় এবং দূরে রাখতে চায়।
  • ৩. নামাযের মধ্যে সন্দেহ তৈরি করে (এই শয়তানের নাম হল খিনযা)। নামায কত রাকাত পড়লাম! কয়টা সিজদাহ করলাম! নামাজের মধ্যে আপনার মনযোগ নষ্ট করবতে চাইবে অথবা অন্য কোন ভালো কাজের কথা মনে করিয়ে দিবে শুধুমাত্র নামায থেকে মনযোগ সড়ানোর জন্য।
  • ৪. আল্লাহ তায়ালার অস্তিত্ব, ক্বুরআনের সত্যতা ইত্যাদি নিয়েও শয়তান মুসলিমদের মনে সন্দেহ করার চেষ্টা করে।

একটা জিনিষ খুব স্পষ্টভাবে মনে রাখা যে শয়তান শুধু আমাদের ধোঁকা দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে কিন্তু আমাদের মাধ্যমে কোন খারাপ কাজ করিয়ে নিতে পারেনা কারন তাকে আল্লাহ তায়ালা শুধু কুমন্ত্রনা দেওয়ার ক্ষমতা দিয়েছে।

কিন্তু আমাদের কে আল্লাহ তায়ালা ভালো বা খারাপ দুটি পথেই যাওয়ার ফ্রি উইল দিয়েছেন। তাই আমাদের মনে মনে বা বাহ্যিক ভাবে করা প্রতিটি হারাম কাজ আমরা নিজেরাই করে থাকি এবং আমাদের কৃতকর্মের জন্য আমাদের আল্লাহ তায়ালার কাছে ব্যক্তিগতভাবে জবাবদিহি করতে হবে এবং এক্ষেত্রে শয়তানের ধোকা বা অন্যকোন অজুহাত আল্লাহর সামনে গ্রহনযোগ্য হবে না।

আল্লাহ্ বলেন,

“শয়তানের কোন আধিপত্য নেই তাদের উপর, যারা ঈমান আনে ও তাদের প্রতিপালকের ওপর নির্ভর করে।” (সূরা আন-নাহল : ৯৯)

“আর যদি শয়তানের প্ররোচনা তোমাকে প্ররোচিত করে তাহলে আল্লাহর শরণাপন্ন হও। তিনিই শ্রবণকারী মহাজ্ঞানী।” (সূরা আল-আরাফ : ২০০)

আমাদের শয়তানের বিভিন্ন রকম ধোঁকা থেকে বেঁচে থাকার জন্য কতগুলো simple কাজ করা উচিত যেমন:

  • ১. বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহ তায়ালার কাছে সাহায্য চাওয়া।
  • ২. সম্ভব হলে মনে মনে বা মৃদু আওয়াজে আযান দেয়া (আযান এর সময় শয়তান দৌড়ে পালায়)।
  • ৩. ক্বুরান তিলাওয়াত করা
  • ৪. সর্বোপরি ভালো চিন্তা করা , ভাল পরিবেশে থাকা, ভালো কাজ করা, ভালো মানুষের সাথে থাকা এবং যথাসম্ভব আল্লাহ তায়ালার সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করা।

আল্লাহ্ আমাদের সকলকে শয়তানের প্ররোচনা থেকে বাঁচার তাওফিক দান করুন।

Print Friendly, PDF & Email


'আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক'
প্রবন্ধের লেখা অপরিবর্তন রেখে এবং উৎস উল্লেখ্য করে
আপনি Facebook, Twitter, ব্লগ, আপনার বন্ধুদের Email Address সহ অন্য Social Networking ওয়েবসাইটে শেয়ার করতে পারেন, মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন। "কেউ হেদায়েতের দিকে আহবান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে প্রত্যেকের সমান সওয়াবের অধিকারী সে হবে, তবে যারা অনুসরণ করেছে তাদের সওয়াবে কোন কমতি হবেনা" [সহীহ্ মুসলিম: ২৬৭৪]

Donate

2 মন্তব্য

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.