কি কি কারণে অভিভাবকত্ব বাতিল হয়?

0

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি-

Guardian

এক.

অভিভাবক যদি সম্পূর্ণরূপে সালাত পরিত্যাগকারী হয় তবে জমহূর বিদ্বানের মতে সে মুসলিম নয়। আর তখন সে মুসলিম নামাযী মেয়ের অভিভাবকত্ব হারাবে।

দুই.

অভিভাবক যদি নিয়মিত সালাত আদায় না করে- কখনো পড়ে কখনো ছাড়ে অথবা কখনো মদ্যপান করে, তবে সে জমহূর বিদ্বানের মতে সে ফাসেক মুসলিম। আর ফাসেক মুসলিম মুমিন নারীর অভিভাবক হতে পারবে কি না সে সম্পর্কে ফিকাহবিদদের মাঝে মতবিরোধ আছে।

শাফেঈ ও হাম্বলী মাযহাব মতে, তার অভিভাবকত্ব সহীহ নয়। হানাফী ফিকাহবীদদের মতে, ফাসেক অভিভাবকত্ব সহীহ। মালেকী মাযহাবের প্রচলিত মতও এটাই। তবে তাঁরা ফাসেকের অভিভাবকত্ব অপছন্দ করেছেন।

শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) বলেন, অভিভাবকের জন্য জায়েয নেই মেয়ের অপছন্দনীয় পাত্রের সাথে জোর করে তার বিবাহ দেয়া। আর ইমামদের ঐক্যমতে মেয়ের পছন্দনীয় পাত্রের সাথে তার বিবাহে বাধা প্রদান করা যাবে না। মেয়েকে জোর করা ও বাধা দেয়া জাহেল ও জালেমদের কাজ। (মাজমু ফাতাওয়া ৩২/৫২)

তিন.

অভিভাবক উপযুক্ত হওয়ার জন্য যে ৬টি শর্ত রয়েছে তার কোন একটি নষ্ট হলে, অভিভাবকত্ব হারাবে।

চার.

অভিভাবক যদি বাধা প্রদানকারী হয়, তবে সে অভিভাবকত্ব হারাবে। এবং অভিভাবকত্ব তার পরের অভিভাবকদের নিকট স্থানান্তর হবে। (ফতোয়া লাজনা দায়েমা- স্থায়ী ফতোয়া বোর্ড ১/১৬৮)

এ অবস্থায় নারীর অভিভাবক কে হবে?

উল্লেখিত যে কোন কারণে যদি অভিভাবকত্ব হারায়, তবে অভিভাবকত্ব পরবর্তী নিকটতম ব্যক্তির নিকট স্থানান্তরিত হবে।

যেমন দাদা, তারপর ভাই, তারপর চাচা ইত্যাদি। শেষ পর্যন্ত যদি কেউ না থাকে, তবে দেশের মুসলিম শাসক বা তার প্রতিনিধি বা গভর্ণর বা মুসলিম কাজী ঐ নারীর অভিভাবক হিসেবে গন্য হবে। (দেখুন মুগনী ৭/৩৪৬)

হানাফী ফিকাহবিদগণ (রহঃ) বলেন,

কোন নারীকে যদি তার অভিভাবক বাধা দেয়, তবে সে তাদের বিরুদ্ধে সুলতানের (শাসকের) কাছে অভিযোগ দায়ের করবে। যাতে করে তাকে যুলুম থেকে মুক্ত করে এবং উপযুক্ত পাত্রের সাথে বিবাহ দিয়ে দেয়। (হাশিয়া ইবনে আবেদীন ৩/৮২)

সৌদী আরবের সাবেক গ্রাণ্ড মুফতী শাইখ মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম (রহঃ) বলেন,

নারী যখন প্রাপ্ত বয়স্ক হয়, আর তাকে বিবাহের জন্য দ্বীন ও চরিত্রের দিক থেকে পছন্দনীয় উপযুক্ত পাত্র প্রস্তাব করে, আর তার মত পাত্রকে প্রত্যাখ্যান করার জন্য অভিভাবক কোন দোষ খুঁজে না পায়, পাত্রও নিজের যোগ্যতাকে প্রমাণ করতে সক্ষম থাকে, তখন ঐ নারীর অভিভাবকের উপর আবশ্যক হচ্ছে পাত্রের আবেদন গ্রহণ করা এবং তার সাথে তাদের মেয়ের বিবাহ দেয়া।

সে যদি তা করতে অসম্মত হয়, তবে পাত্রির পছন্দের বিষয়টির প্রতি গুরুত্বারোপ করার ব্যাপারে সতর্ক করতে হবে। তারপরও যদি অসম্মতিতে স্থির থাকে, তবে তার অভিভাবকত্ব বাতিল হয়ে যাবে। তখন অভিভাবকত্ব পরবর্তী নিকটাত্মীয়দের প্রতি স্থানান্তরিত হয়ে যাবে। (ফতোয়া শাইখ মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম ১০/ ৯৭)

শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালেহ উছাইমীন (রহঃ) বলেন, অভিভাবক যদি দ্বীন ও চরিত্রের দিক থেকে পছন্দনীয় উপযুক্ত পাত্রের প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করে এবং তার সাথে বিবাহ দিতে অস্বীকার করে, তবে তার অভিভাবকত্ব পরবর্তী অধিকতর নিকটাত্মীয়ের নিকট স্থানান্তরিত হয়ে যাবে।

কিন্তু তারাও যদি অস্বীকার করে, তবে শরীয়ত সম্মত হাকেমের নিকট অভিভাবকত্ব স্থানান্তরিত হবে। তখন শরীয়ত সম্মত হাকেম বা শাসক তার বিবাহ দিয়ে দিবে। (ফতোয়া নূরুন আলাদ দারব, অধ্যায়ঃ ৩১৩)

ইবনুল মুনযির (রহঃ) বলেন, বিদ্বানদের ঐক্যমত আছে যে সুলতান নারীর বিবাহ দিয়ে দিবে যদি সে বিবাহ করতে চায় এবং (দ্বীন ও চরিত্রের দিক থেকে) উপযুক্ত পাত্র পছন্দ করে থাকে; কিন্তু অভিভাবক তার বিবাহে বাধা প্রদান করে। (আল ইজমা ১/৭৮

Print Friendly, PDF & Email


'আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক'
প্রবন্ধের লেখা অপরিবর্তন রেখে এবং উৎস উল্লেখ্য করে
আপনি Facebook, Twitter, ব্লগ, আপনার বন্ধুদের Email Address সহ অন্য Social Networking ওয়েবসাইটে শেয়ার করতে পারেন, মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন। "কেউ হেদায়েতের দিকে আহবান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে প্রত্যেকের সমান সওয়াবের অধিকারী সে হবে, তবে যারা অনুসরণ করেছে তাদের সওয়াবে কোন কমতি হবেনা" [সহীহ্ মুসলিম: ২৬৭৪]

Donate

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.